– দশ লক্ষ টাকা লাগবে।
.
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনে আসিফ সাহেবের মাথায় হাত হওয়ার উপকরণ। তিনি তার ছেলেকে সরকারি চাকরি দিতে চান। তার ছেলে অনার্স কমপ্লিট করে বাসায় বসে আছে। কোনো চাকরি করছে না। আর আসিফ সাহেব চান তার ছেলে সরকারি চাকরি করুক তাই তিনি তার এক বন্ধুর কাছে এসেছেন ছেলের চাকরির কথা বলতে। কিন্তু তার বন্ধু বলছে চাকরি সে দিতে পারবে কিন্তু দশ লক্ষ টাকা লাগবে। টাকা না হলে চাকরি হবে না। এখন আসিফ সাহেব কি করবেন তাই ভাবছেন।
– কি বন্ধু তুমি কি টাকা দিতে পারবা? তাহলে আমি যোগাযোগ করি।(আসিফ সাহেবের বন্ধু)
– আসলে আমার পক্ষেতো এত টাকা দেওয়া সম্ভব না(আসিফ সাহেব)
– তাহলে চাকরির কথা ভুলে যাও।
– না না বন্ধু এ কি করে হয়। যে করে হোক আমি টাকার ব্যবস্থা করবো। আমার শুধু একটু সময়ের প্রয়োজন।
– আচ্ছা। টাকা জোগাড় হয়ে গেলে আমাকে ফোন দিয়ে জানিও।
-আচ্ছা, এখন তাহলে আমি আসি।
– আচ্ছা।
.
আসিফ সাহেব রাস্তা দিয়ে হাটছেন আর ভাবছেন যে তিনিতো তার বন্ধুকে কথা দিয়ে এসেছে যে টাকা তিনি দিবেন, কিন্তু কোথা থেকে টাকার ব্যবস্থা করবেন? এসব চিন্তা করতে করতে তিনি বাসায় চলে আসেন। তার স্ত্রী বলেন-
– কি হলো ইমনের বাবা? চাকরি কি হবে?( আসিফ সাহেবের স্ত্রী)
– হ্যা হবে। কিন্তু টাকা চেয়েছেন।(আসিফ সাহেব)
– কত টাকা?
– দশ লক্ষ
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনে আসিফ সাহেবের স্ত্রীর মাথায় হাত।
– এত টাকা কিভাবে পাবো আমরা?
– দেখা যাক কি করি। ইমন কোথায়?
– সেতো খেয়েদেয়ে নিজের রুমে আছে।
– আচ্ছা। আমাকে এখন খেতে দাও।
– হ্যা চলো।
আসিফ সাহেব খেয়ে ঘুমাতে যান কিন্তু তার মাথায় যে অনেক বড় একটা কথা ঘুরছে। তিনি কোথা থেকে টাকা পাবেন। তিনি বিছানাই শুয়ে আছেন কিন্তু তার ঘুম আসছে না।
.
– ইমনের মা। ( চিৎকার করে ডাকলেন আসিফ সাহেব)
তার স্ত্রী রান্না ঘরে রান্না করতে ছিল,তিনি ডাক শুনে আসলেন
– তুমি বাইরে থেকে চলে আসলে?
– হ্যা, ইমন কোথাই?
– সে রুমে।
– তাকে ডেকে আনো।
তার স্ত্রী ইমনকে ডেকে আনলো
– হ্যা বাবা বলো(ইমন)
– তোমার চাকরির ব্যবস্থা করে আসলাম।
– তুমি টাকা কোথাই পেলে? (আসিফ সাহেবের স্ত্রী)
– পেয়েছি কোথাও, সেইটা বিষয় না। ইমন তুমি প্রস্তুতি নাও।
– জি বাবা।
এই বলে আসিফ সাহেব তার রুমে গেলেন ঘুমাতে।
.
– ইমনের মা?(আসিফ সাহেব)
– হ্যা বলো।
– আজ আমার আসতে একটু লেট হবে। চিন্তা করো না।
– আচ্ছা। কিন্তু কোথায় যাচ্ছো?
– জরুরি কাজে।
– আচ্ছা।
আসিফ সাহেব বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিকশায় উঠলেন।
.
রিকশা এসে একটা হাসপাতালের সামনে থামলো। আসিফ সাহেব ভিতরে গেলেন। সেখানে গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বললেন। এবং তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। এখন পাঠকরা ভাবছে আসিফ সাহেবকে কেন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। আসল ঘটনা হলো। তিনি রাতে চিন্তা করছিলেন যে ছেলে চাকরির টাকা কিভাবে জোগাড় করা যায়। তখন তার মাতায় একটা বুদ্ধি আসে। তিনি সকালে হাসপাতালে আসেন এবং ডাক্তারদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে কারো কিডনি লাগবে কিনা। পেয়েও যান একজনকে। বড়লোক একজনের ছেলের কিডনি প্রয়োজন। তারা যত টাকা চান দিতে রাজি আছেন। আসিফ সাহেব রাজি হয়ে যান এবং আজ তিনি কিডনি দিতে এসেছেন।
.
আসিফ সাহেবের অপারেশন শেষ হলো ভালোভাবেই। কিন্তু ডাক্তার তাকে বলেছেন হাসপাতালে থাকতে কিন্তু তিনি বাসায় চলে আসেন। বাসায় আসার পর তিনি তার রুমে গিয়ে শুয়ে পরলেন। তিনি তার বন্ধুকে ফোন দেন চাকরির ব্যপারে কথা বলার জন্য। কাল তো টাকা দিয়ে এসেছে। আজতো কিছু হওয়ার কথা। তিনি ফোন দেন কিন্তু তার বন্ধু ফোন রিসিভ করে না। তিনি বার বার দিতে থাকেন কিন্তু রিসিভ করেন না একসময় ফোন বন্ধ শোনা যায়। আসিফ সাহেবের হার্টবিট বেড়ে যায়। তিনি শুয়ে পড়েন। একটু পর তার স্ত্রী তার রুমে আসেন। আসিফ সাহেব শুয়ে আছেন।
.
রাতে আসিফ সাহেবের অনেক ব্যথা ওঠে। তাকে নিয়ে তার ছেলে এবং স্ত্রী ডাক্তারের কাছে আসেন। ডাক্তার আসিফ সাহেবকে দেখে বলেন-
– ওনাকে তো আমি বেডে থাকতে বলেছিলাম কিন্তু তিনি চিলে গেলেন কেন? ( ডাক্তার)
– কি বলছেন ডাক্তার সাহেব? বাবা বেডে থাকবে কেন? বাবার কি হয়েছে?
তারপর ডাক্তার তাদের খুলে বলেন। আসিফ সাহেবের স্ত্রী এবং ছেলে দুজনেই শুনে অবাক হয়ে যান, যে সামান্য চাকরির জন্য আসিফ সাহেব নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন।
.
সেই রাতে আসিফ সাহেবের অনেক ব্যথা ওঠে এবং সেই রাতেই তিনি মারা যান। পরে তার বন্ধুরও কোনো খোজ খবর পাওয়া যায়নি।
.
– #বস্তবতা_২
– #Emon
.
(কোনো ভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাপ করবেন।)
বাস্তবতা-১
বাবা কয়টা টাকা দিবা? একটু ভাত খাইতাম।
.
যাত্রি ছাউনিতে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখনি একটা বৃদ্ধ লোক আমার কাছে এসে উপরের কথাটি বলল। আমি লোকটিকে ভালো করে দেখলাম। লোকটি একটা পাঞ্জাবী পরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে না যে তিনি ভিক্ষা করেন। আমি তাকে বললাম-
– চাচা আপনাকেতো দেখে মনে হচ্ছে না যে আপনি ভিক্ষা করেন। (আমি)
– বাবা বিপদে পরে করতে হচ্ছে।(লোকটি)
– কিসের বিপদ চাচা?
– তোমাকে বললে তুমি বিশ্বাস করবা না।
– আপনি বলেন।
– বাবা একটা কথা বলি আগে?
– জ্বি বলেন
– বাবা আমার লজ্জা করতেছে তোমাকে বলতে কিন্তু না বলে যে উপায় নেই বাবা। আমরা অনেক ক্ষুদা লেগেছে, যদি কিছু খাওয়াইতা তাইলে ভালো হইতো।
লোকটার কথা শুনে আমার অনেক খারাপ লাগলো। কারন তিনি আমার বাবার বয়সের।
.
আমি তাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম এবং তাকে কিছু খাওয়ালাম, তারপর তাকে বললাম-
– চাচা এখন বলেন, আপনার এই অবস্থা কেন?(আমি)
.
তিনি বলতে শুরু করলেন-
– বাবা আমার একটা ছেলে আছে, সে সরকারি চাকরি করে। আমার স্ত্রী মারা গেছে সেই পাচঁ বছর আগে। আমার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি এক বছর হলো। সে একটা মেয়েকে পছন্দ করতো তার সাথেই তাকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কয়েকদিন যাবত আমি দেখতেছি আমার ছেলে আমার কথা শুনেনা। সে অফিস থেকে বাসায় এসে আগে আমার কাছে এসে কিছুক্ষণ কথা বলতো। কিন্তু এখন সে আমার সাথে কথাই বলেনা বললে চলে। কাল আমি আমার ঘরে শুয়ে ছিলাম তখন আমার ছেলের আর তার বউয়ের কথা আমার কানে আসলো।
তাদের কথপোকথন এরাকম ছিলো-
– তুমি কি তোমার বাবাকে বাসা থেকে বের করবা? নাকি আমি করবো?( ছেলের বউ)
– আরে বাবাকে কিভাবে বলবো তাই ই তো বুঝতেছিনা।( ছেলে)
– তাহলে আমি বলে দেই?
– আচ্ছা আমি বলবো সময় আসলে।
– তাড়াতাড়ি।
আমি তাদের কথা শুনে যা বুঝলাম তারা আর আমাকে চাইনা তাদের সংসারে। আমি এখন তাদের জন্য বোঝা হয়ে গিয়েছি। তাই কাল রাতেই আমি বাসা থেকে চলে এসেছি কাউকে কিছু না বলে। বাবা আমার ছেলে যখন কথা গুলো বলছিলো। আমি তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কারন সে যখন যা চেয়েছে তখন আমি তাকে তাই দিয়েছি। তার চাকরির সময় আমার শেষ সম্বল আমার বাবার দেওয়া জমি টুকু বিক্রি করে আমি তাকে চাকরি দিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলে সব কিছু ভুলে গেছে। ( লোকটি কথা গুলো বলতে বলতে কেদে দিলো)
.
লোকটির কথা গুলো শুনে আমি তাকে শান্তনা দেওয়ার মত কিছুই পেলাম না। এসময় হয়তো কোনো কিছু দিয়েই শান্তনা দেওয়া যায় না কোনো মানুষকে। লোকটি আমাকে আবার বলল-
– বাবা তোমাকে একটা উপদেশ দিতে পারি?
– জ্বী অবশ্যই
– জীবনে কখনোই নিজের বাবা-মাকে কষ্ট দিওনা। কারন তারা অনেক কষ্ট করে তোমাদের বড় করে আর তোমরা যদি তাদের কষ্ট দাও, তাহলে একবার ভেবে দেখো তোমার বাবা- মার অনুভূতি টা কেমন হবে। যাই হোক অনেক কিছুই বলে ফেললাম কিছু মনে করো না।
– নাহ চাচা ঠিক আছে। আর আপনি একটু এখানে বসেন আমি একটা ফোনে কথা বলে আসি। আপনি কোথাও যাবেন না প্লিজ।
আমি লোকটির থেকে একটু দূরে এসে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম, তাদের নিজস্ব একটা বৃদ্ধাশ্রম আছে। আমি তাকে ফোন দিলাম-
– হ্যালো (বন্ধু)
– হ্যা কোথায় তুই?( আমি)
– বাসায়।তুই কোথায়?
– বাদদে, আগে শোন আমি যা বলি
– বল
– একটা লোককে তার ছেলে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। তার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এখন কি তোদের যে বৃদ্ধাশ্রম আছে ঐখানে লোকটাকে নেওয়া যাবে?
– অবশ্যই।তুই এখন কোথায় আছিস বল, আমি এসে তাকে নিয়ে যায়।
আমি তাকে আমার ঠিকানা বলে ফোনটা কেটে দিলাম।
.
কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আসলো এবং লোকটিকে সাথে করে নিয়ে গেল। লোকটি যাওয়ার আগে একটা কথাই বলল-
– তুমি যদি আমার ছেলে হোতা তাহলে কেমন হতো।
.
আমি তার দিকে তাকিয়ে শুধু একটু হাসলাম, তাছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।❤
.
– #বস্তবতা_১
– #Emon
.
( দয়া করে নিজের বাবা-মাকে কখনো কষ্ট দিবেন না। কাউকে কোনো ভাবে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।)
The Journey Begins
Thanks for joining me!
Good company in a journey makes the way seem shorter. — Izaak Walton
