বাবা কয়টা টাকা দিবা? একটু ভাত খাইতাম।
.
যাত্রি ছাউনিতে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখনি একটা বৃদ্ধ লোক আমার কাছে এসে উপরের কথাটি বলল। আমি লোকটিকে ভালো করে দেখলাম। লোকটি একটা পাঞ্জাবী পরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে না যে তিনি ভিক্ষা করেন। আমি তাকে বললাম-
– চাচা আপনাকেতো দেখে মনে হচ্ছে না যে আপনি ভিক্ষা করেন। (আমি)
– বাবা বিপদে পরে করতে হচ্ছে।(লোকটি)
– কিসের বিপদ চাচা?
– তোমাকে বললে তুমি বিশ্বাস করবা না।
– আপনি বলেন।
– বাবা একটা কথা বলি আগে?
– জ্বি বলেন
– বাবা আমার লজ্জা করতেছে তোমাকে বলতে কিন্তু না বলে যে উপায় নেই বাবা। আমরা অনেক ক্ষুদা লেগেছে, যদি কিছু খাওয়াইতা তাইলে ভালো হইতো।
লোকটার কথা শুনে আমার অনেক খারাপ লাগলো। কারন তিনি আমার বাবার বয়সের।
.
আমি তাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম এবং তাকে কিছু খাওয়ালাম, তারপর তাকে বললাম-
– চাচা এখন বলেন, আপনার এই অবস্থা কেন?(আমি)
.
তিনি বলতে শুরু করলেন-
– বাবা আমার একটা ছেলে আছে, সে সরকারি চাকরি করে। আমার স্ত্রী মারা গেছে সেই পাচঁ বছর আগে। আমার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছি এক বছর হলো। সে একটা মেয়েকে পছন্দ করতো তার সাথেই তাকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কয়েকদিন যাবত আমি দেখতেছি আমার ছেলে আমার কথা শুনেনা। সে অফিস থেকে বাসায় এসে আগে আমার কাছে এসে কিছুক্ষণ কথা বলতো। কিন্তু এখন সে আমার সাথে কথাই বলেনা বললে চলে। কাল আমি আমার ঘরে শুয়ে ছিলাম তখন আমার ছেলের আর তার বউয়ের কথা আমার কানে আসলো।
তাদের কথপোকথন এরাকম ছিলো-
– তুমি কি তোমার বাবাকে বাসা থেকে বের করবা? নাকি আমি করবো?( ছেলের বউ)
– আরে বাবাকে কিভাবে বলবো তাই ই তো বুঝতেছিনা।( ছেলে)
– তাহলে আমি বলে দেই?
– আচ্ছা আমি বলবো সময় আসলে।
– তাড়াতাড়ি।
আমি তাদের কথা শুনে যা বুঝলাম তারা আর আমাকে চাইনা তাদের সংসারে। আমি এখন তাদের জন্য বোঝা হয়ে গিয়েছি। তাই কাল রাতেই আমি বাসা থেকে চলে এসেছি কাউকে কিছু না বলে। বাবা আমার ছেলে যখন কথা গুলো বলছিলো। আমি তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কারন সে যখন যা চেয়েছে তখন আমি তাকে তাই দিয়েছি। তার চাকরির সময় আমার শেষ সম্বল আমার বাবার দেওয়া জমি টুকু বিক্রি করে আমি তাকে চাকরি দিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলে সব কিছু ভুলে গেছে। ( লোকটি কথা গুলো বলতে বলতে কেদে দিলো)
.
লোকটির কথা গুলো শুনে আমি তাকে শান্তনা দেওয়ার মত কিছুই পেলাম না। এসময় হয়তো কোনো কিছু দিয়েই শান্তনা দেওয়া যায় না কোনো মানুষকে। লোকটি আমাকে আবার বলল-
– বাবা তোমাকে একটা উপদেশ দিতে পারি?
– জ্বী অবশ্যই
– জীবনে কখনোই নিজের বাবা-মাকে কষ্ট দিওনা। কারন তারা অনেক কষ্ট করে তোমাদের বড় করে আর তোমরা যদি তাদের কষ্ট দাও, তাহলে একবার ভেবে দেখো তোমার বাবা- মার অনুভূতি টা কেমন হবে। যাই হোক অনেক কিছুই বলে ফেললাম কিছু মনে করো না।
– নাহ চাচা ঠিক আছে। আর আপনি একটু এখানে বসেন আমি একটা ফোনে কথা বলে আসি। আপনি কোথাও যাবেন না প্লিজ।
আমি লোকটির থেকে একটু দূরে এসে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম, তাদের নিজস্ব একটা বৃদ্ধাশ্রম আছে। আমি তাকে ফোন দিলাম-
– হ্যালো (বন্ধু)
– হ্যা কোথায় তুই?( আমি)
– বাসায়।তুই কোথায়?
– বাদদে, আগে শোন আমি যা বলি
– বল
– একটা লোককে তার ছেলে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। তার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এখন কি তোদের যে বৃদ্ধাশ্রম আছে ঐখানে লোকটাকে নেওয়া যাবে?
– অবশ্যই।তুই এখন কোথায় আছিস বল, আমি এসে তাকে নিয়ে যায়।
আমি তাকে আমার ঠিকানা বলে ফোনটা কেটে দিলাম।
.
কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আসলো এবং লোকটিকে সাথে করে নিয়ে গেল। লোকটি যাওয়ার আগে একটা কথাই বলল-
– তুমি যদি আমার ছেলে হোতা তাহলে কেমন হতো।
.
আমি তার দিকে তাকিয়ে শুধু একটু হাসলাম, তাছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।❤
.
– #বস্তবতা_১
– #Emon
.
( দয়া করে নিজের বাবা-মাকে কখনো কষ্ট দিবেন না। কাউকে কোনো ভাবে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন।)