বাস্তবতা -২

– দশ লক্ষ টাকা লাগবে।
.
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনে আসিফ সাহেবের মাথায় হাত হওয়ার উপকরণ। তিনি তার ছেলেকে সরকারি চাকরি দিতে চান। তার ছেলে অনার্স কমপ্লিট করে বাসায় বসে আছে। কোনো চাকরি করছে না। আর আসিফ সাহেব চান তার ছেলে সরকারি চাকরি করুক তাই তিনি তার এক বন্ধুর কাছে এসেছেন ছেলের চাকরির কথা বলতে। কিন্তু তার বন্ধু বলছে চাকরি সে দিতে পারবে কিন্তু দশ লক্ষ টাকা লাগবে। টাকা না হলে চাকরি হবে না। এখন আসিফ সাহেব কি করবেন তাই ভাবছেন।
– কি বন্ধু তুমি কি টাকা দিতে পারবা? তাহলে আমি যোগাযোগ করি।(আসিফ সাহেবের বন্ধু)
– আসলে আমার পক্ষেতো এত টাকা দেওয়া সম্ভব না(আসিফ সাহেব)
– তাহলে চাকরির কথা ভুলে যাও।
– না না বন্ধু এ কি করে হয়। যে করে হোক আমি টাকার ব্যবস্থা করবো। আমার শুধু একটু সময়ের প্রয়োজন।
– আচ্ছা। টাকা জোগাড় হয়ে গেলে আমাকে ফোন দিয়ে জানিও।
-আচ্ছা, এখন তাহলে আমি আসি।
– আচ্ছা।
.
আসিফ সাহেব রাস্তা দিয়ে হাটছেন আর ভাবছেন যে তিনিতো তার বন্ধুকে কথা দিয়ে এসেছে যে টাকা তিনি দিবেন, কিন্তু কোথা থেকে টাকার ব্যবস্থা করবেন? এসব চিন্তা করতে করতে তিনি বাসায় চলে আসেন। তার স্ত্রী বলেন-
– কি হলো ইমনের বাবা? চাকরি কি হবে?( আসিফ সাহেবের স্ত্রী)
– হ্যা হবে। কিন্তু টাকা চেয়েছেন।(আসিফ সাহেব)
– কত টাকা?
– দশ লক্ষ
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনে আসিফ সাহেবের স্ত্রীর মাথায় হাত।
– এত টাকা কিভাবে পাবো আমরা?
– দেখা যাক কি করি। ইমন কোথায়?
– সেতো খেয়েদেয়ে নিজের রুমে আছে।
– আচ্ছা। আমাকে এখন খেতে দাও।
– হ্যা চলো।
আসিফ সাহেব খেয়ে ঘুমাতে যান কিন্তু তার মাথায় যে অনেক বড় একটা কথা ঘুরছে। তিনি কোথা থেকে টাকা পাবেন। তিনি বিছানাই শুয়ে আছেন কিন্তু তার ঘুম আসছে না।
.
– ইমনের মা। ( চিৎকার করে ডাকলেন আসিফ সাহেব)
তার স্ত্রী রান্না ঘরে রান্না করতে ছিল,তিনি ডাক শুনে আসলেন
– তুমি বাইরে থেকে চলে আসলে?
– হ্যা, ইমন কোথাই?
– সে রুমে।
– তাকে ডেকে আনো।
তার স্ত্রী ইমনকে ডেকে আনলো
– হ্যা বাবা বলো(ইমন)
– তোমার চাকরির ব্যবস্থা করে আসলাম।
– তুমি টাকা কোথাই পেলে? (আসিফ সাহেবের স্ত্রী)
– পেয়েছি কোথাও, সেইটা বিষয় না। ইমন তুমি প্রস্তুতি নাও।
– জি বাবা।
এই বলে আসিফ সাহেব তার রুমে গেলেন ঘুমাতে।
.
– ইমনের মা?(আসিফ সাহেব)
– হ্যা বলো।
– আজ আমার আসতে একটু লেট হবে। চিন্তা করো না।
– আচ্ছা। কিন্তু কোথায় যাচ্ছো?
– জরুরি কাজে।
– আচ্ছা।
আসিফ সাহেব বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিকশায় উঠলেন।
.
রিকশা এসে একটা হাসপাতালের সামনে থামলো। আসিফ সাহেব ভিতরে গেলেন। সেখানে গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বললেন। এবং তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। এখন পাঠকরা ভাবছে আসিফ সাহেবকে কেন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। আসল ঘটনা হলো। তিনি রাতে চিন্তা করছিলেন যে ছেলে চাকরির টাকা কিভাবে জোগাড় করা যায়। তখন তার মাতায় একটা বুদ্ধি আসে। তিনি সকালে হাসপাতালে আসেন এবং ডাক্তারদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে কারো কিডনি লাগবে কিনা। পেয়েও যান একজনকে। বড়লোক একজনের ছেলের কিডনি প্রয়োজন। তারা যত টাকা চান দিতে রাজি আছেন। আসিফ সাহেব রাজি হয়ে যান এবং আজ তিনি কিডনি দিতে এসেছেন।
.
আসিফ সাহেবের অপারেশন শেষ হলো ভালোভাবেই। কিন্তু ডাক্তার তাকে বলেছেন হাসপাতালে থাকতে কিন্তু তিনি বাসায় চলে আসেন। বাসায় আসার পর তিনি তার রুমে গিয়ে শুয়ে পরলেন। তিনি তার বন্ধুকে ফোন দেন চাকরির ব্যপারে কথা বলার জন্য। কাল তো টাকা দিয়ে এসেছে। আজতো কিছু হওয়ার কথা। তিনি ফোন দেন কিন্তু তার বন্ধু ফোন রিসিভ করে না। তিনি বার বার দিতে থাকেন কিন্তু রিসিভ করেন না একসময় ফোন বন্ধ শোনা যায়। আসিফ সাহেবের হার্টবিট বেড়ে যায়। তিনি শুয়ে পড়েন। একটু পর তার স্ত্রী তার রুমে আসেন। আসিফ সাহেব শুয়ে আছেন।
.
রাতে আসিফ সাহেবের অনেক ব্যথা ওঠে। তাকে নিয়ে তার ছেলে এবং স্ত্রী ডাক্তারের কাছে আসেন। ডাক্তার আসিফ সাহেবকে দেখে বলেন-
– ওনাকে তো আমি বেডে থাকতে বলেছিলাম কিন্তু তিনি চিলে গেলেন কেন? ( ডাক্তার)
– কি বলছেন ডাক্তার সাহেব? বাবা বেডে থাকবে কেন? বাবার কি হয়েছে?
তারপর ডাক্তার তাদের খুলে বলেন। আসিফ সাহেবের স্ত্রী এবং ছেলে দুজনেই শুনে অবাক হয়ে যান, যে সামান্য চাকরির জন্য আসিফ সাহেব নিজের কিডনি বিক্রি করে দেন।
.
সেই রাতে আসিফ সাহেবের অনেক ব্যথা ওঠে এবং সেই রাতেই তিনি মারা যান। পরে তার বন্ধুরও কোনো খোজ খবর পাওয়া যায়নি।
.
– #বস্তবতা_২
– #Emon
.
(কোনো ভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাপ করবেন।)

Leave a comment